এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো ক্রিকেটবিশ্ব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই এক মহাকাব্যিক জয় আর বিরল বিশ্বরেকর্ড উপহার দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার কায়লা রেনেকে। ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শেষ বলের ছক্কায় দলকে ২ উইকেটের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এই উদীয়মান তারকা।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৬৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন কায়লা রেনেকে এবং নাদিন ডি ক্লার্ক। ম্যাচের শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪ রান, হাতে ছিল মাত্র ২ উইকেট।বল হাতে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি সুজি বেটস। ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র ২ রান আসলেও চতুর্থ বলে একটি ছক্কা মেরে সমীকরণ সহজ করেন কায়লা। তবে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান। অভিজ্ঞ সুজি বেটসের বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে অবিশ্বাস্য এক জয় নিশ্চিত করেন কায়লা। তিনি মাত্র ৩২ বলে অপরাজিত ৪২ রানের (৩টি চার ও ২টি ছক্কা) এক হার না মানা ইনিংস খেলেন।
এই ম্যাচজয়ী ইনিংসের সুবাদে ওয়ানডে অভিষেকেই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন কায়লা রেনেকে। আর এর মাধ্যমেই তিনি গড়েছেন এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম নারী ক্রিকেটার এবং বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার (পুরুষ ও নারী মিলিয়ে), যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি এবং প্রথম ওয়ানডের অভিষেক ম্যাচে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
গত মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের টি-টোয়েন্টি অভিষেকেও একইভাবে শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন রেনেকে।
কেপটাউন থেকে উঠে আসা এই অফ-স্পিন অলরাউন্ডার আজ বল হাতেও ছিলেন বেশ মিতব্যয়ী। কিউই ব্যাটারদের দাপটের মুখেও ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করেনে তিনি।

